VATCore

মূসক-৬.৩ চালান কীভাবে লিখবেন — কোন ঘরে কী বসে, কখন দিতে হয়

মূসক-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান যখনই কোনো পণ্য বা সেবা সরবরাহ করে, তখন ক্রেতাকে একটি কর চালানপত্র (মূসক-৬.৩) দিতে হয়। এটি সাধারণ ক্যাশমেমো নয় — এনবিআরের নির্ধারিত ছকে তৈরি একটি দলিল, যার ভিত্তিতে আপনার বিক্রয়ের মূসক হিসাব হয় এবং ক্রেতা তাঁর ক্রয়ের মূসক রেয়াত (ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট) নেন। ভুল বা অসম্পূর্ণ চালান মানে ক্রেতার রেয়াত বাতিল আর আপনার জন্য অডিটে প্রশ্ন।

কখন ইস্যু করতে হয়

মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ অনুযায়ী সরবরাহের সময়েই চালান ইস্যু করতে হয় — পণ্য হস্তান্তর বা সেবা দেওয়ার সময়, অথবা তার আগে টাকা পেলে টাকা পাওয়ার সময়, যেটি আগে ঘটে।

প্রতিটি সরবরাহে একটি চালান; একটি চালান দুই কপি — মূল কপি ক্রেতার, অফিস কপি আপনার। চালানের ধারাবাহিক নম্বর থাকবে, মাঝে কোনো নম্বর বাদ পড়বে না।

চালানে কী কী থাকতে হবে

মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি ৪০ অনুযায়ী মূসক-৬.৩-এ থাকবে:

উপরের অংশ (হেডার)

  • সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা ও বিআইএন (ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর — নিবন্ধন সনদে যেভাবে লেখা, হুবহু সেভাবে)
  • চালানের ক্রমিক নম্বর, ইস্যুর তারিখ ও সময়
  • ক্রেতার নাম, ঠিকানা এবং নিবন্ধিত হলে বিআইএন
  • সরবরাহের গন্তব্য (ডেলিভারি ঠিকানা) এবং পণ্য পরিবহনের যানবাহনের ধরন ও নম্বর (পণ্যের ক্ষেত্রে)

১১টি কলামের ছক

কলাম কী লিখবেন
১ ক্রমিক নম্বর
২ পণ্য বা সেবার বিবরণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড ও আকার)
৩ সরবরাহের একক (পিস, কেজি, লিটার, ঘণ্টা…)
৪ পরিমাণ
৫ একক মূল্য (টাকা) — মূসক ছাড়া
৬ মোট মূল্য — কলাম ৪ × কলাম ৫
৭ সম্পূরক শুল্কের হার (প্রযোজ্য হলে)
৮ সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ
৯ মূসকের হার (১৫%, ১০%, ৭.৫%, ৫% বা নির্দিষ্ট পরিমাণ)
১০ মূসকের পরিমাণ
১১ সম্পূরক শুল্ক ও মূসকসহ মোট মূল্য

সবশেষে সর্বমোট, এবং নিচে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি, স্বাক্ষর ও সিল।

হার কোনটি বসবে

স্ট্যান্ডার্ড হার ১৫%। কিছু পণ্য ও সেবায় হ্রাসকৃত হার (যেমন ৫%, ৭.৫%, ১০%) বা নির্দিষ্ট পরিমাণে মূসক প্রযোজ্য — তৃতীয় তফসিল দেখুন। যে হার প্রযোজ্য, কলাম ৯-এ সেটিই লিখবেন; একই চালানে ভিন্ন ভিন্ন হারের পণ্য থাকতে পারে, প্রতিটি লাইনে নিজের হার।হার প্রতি বাজেটে বদলাতে পারে, তাই চলতি অর্থবছরের তফসিল দেখে নিন।

দাম যদি মূসকসহ ধরা থাকে

দোকানে সাধারণত দাম মূসকসহ বলা হয়। তখন মূসক ছাড়া মূল্য বের করতে হয়: মূসকসহ দাম ÷ ১.১৫ (১৫% হারে)। যেমন ৳১,১৫০ বিক্রয়মূল্যের পণ্যে মূল্য ৳১,০০০ আর মূসক ৳১৫০। কলাম ৫-এ ৳১,০০০, কলাম ১০-এ ৳১৫০, কলাম ১১-এ ৳১,১৫০।

সাধারণ ভুল

  1. সময় না লেখা — তারিখের সঙ্গে ইস্যুর সময় লেখা বাধ্যতামূলক।
  2. ক্রেতার বিআইএন বাদ — নিবন্ধিত ক্রেতা বিআইএন ছাড়া চালানে রেয়াত পান না।
  3. একই নম্বরে দুটি চালান বা মাঝে নম্বর বাদ — অডিটে প্রথম যে জিনিসটি মেলানো হয়।
  4. ইস্যুর পর চালান বদলানো — ভুল হলে চালান বাতিল করে নতুন চালান, অথবা ক্রেডিট/ডেবিট নোট (মূসক-৬.৭ / ৬.৮)। কাটাকুটি নয়।
  5. হাতে লেখা হিসাবের ভুল — কলাম ৬, ১০ ও ১১ মেলে না।

সাধারণ প্রশ্ন

ছোট দোকানেও কি ৬.৩ লাগে? মূসক-নিবন্ধিত হলে হ্যাঁ। টার্নওভার কর তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান (৪% টার্নওভার কর) মূসক-৬.৩ দেয় না; তারা টার্নওভার করের জন্য নির্ধারিত সরল চালান ব্যবহার করে।

কম্পিউটারে ছাপা চালান চলবে? চলবে, নির্ধারিত ছকের সব তথ্য থাকলেই হয়। নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের জন্য এনবিআর-অনুমোদিত ইএফডি/এসডিসি যন্ত্র বাধ্যতামূলক — আপনার প্রতিষ্ঠান সেই তালিকায় আছে কি না দেখে নিন।

চালান কত দিন রাখতে হয়? সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্তত পাঁচ বছর। কম্পিউটারে বা অনুমোদিত সফটওয়্যারে রাখা রেকর্ডও গ্রহণযোগ্য।


ভ্যাটকোরে পণ্য, পরিমাণ ও দাম লিখলেই মূসক-৬.৩ নির্ধারিত ছকে তৈরি হয় — সময়, ধারাবাহিক নম্বর, হার ও হিসাব নিজে থেকে; মূসকসহ দাম হলে একটি টিক। ইস্যুর পর চালান বদলানো যায় না, ভুল হলে ৬.৭/৬.৮ নোট। প্রতিটি চালানে কিউআর কোড — ক্রেতা স্ক্যান করলেই দেখেন চালানটি আসল।

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬ (অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী)। আইন, হার ও সময়সীমা বাজেট বা এসআরও-তে বদলাতে পারে — বড় সিদ্ধান্তের আগে চলতি নিয়ম বা আপনার মূসক পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এটি আইনি পরামর্শ নয়।