মূসক-৯.১ রিটার্ন দাখিল — ধাপে ধাপে, কোন ঘরে কী বসে
প্রতিটি মূসক-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিন মাসে একটি রিটার্ন দিতে হয় — মূসক-৯.১। ওই সময়ে বিক্রি না হলেও (শূন্য রিটার্ন) দিতে হয়। রিটার্নে তিন মাসের বিক্রয়ের ওপর মূসক (আউটপুট ট্যাক্স), ক্রয়ের ওপর দেওয়া মূসক (ইনপুট ট্যাক্স / রেয়াত), সমন্বয় আর শেষে কত টাকা জমা দিতে হবে বা কত টাকা পরের রিটার্নে টানা যাবে — সব থাকে।
কখন দিতে হয়
অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে রিটার্ন ত্রৈমাসিক: প্রতি তিনটি কর মেয়াদ (তিন মাস) শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয় — ১৫তম দিন ছুটির দিন হলে পরের কার্যদিবসে। যেমন জুলাই–সেপ্টেম্বরের রিটার্ন ১৫ অক্টোবরের মধ্যে, অক্টোবর–ডিসেম্বরের রিটার্ন ১৫ জানুয়ারির মধ্যে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা এবং শূন্য রিটার্নের ক্ষেত্রে সময় ২০ দিন। চাইলে মেয়াদ শেষের পর আগেভাগেও দাখিল করা যায়।
কর মেয়াদ এখনো এক মাস — অর্থাৎ হিসাব, রেজিস্টার ও চালান মাসভিত্তিক থাকে, শুধু রিটার্ন তিন মাস একসঙ্গে। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের রিটার্ন আগের নিয়মে (মাসিক) দাখিল হয়েছে।
রিটার্ন অনলাইনে, এনবিআরের ই-ভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করতে হয়; কাগজে দাখিলের সুযোগ আর নেই।
আগে কী কী গুছিয়ে নেবেন
- তিন মাসের সব বিক্রয় চালান (মূসক-৬.৩) — হার অনুযায়ী মোট মূল্য ও মূসক
- তিন মাসের সব ক্রয় চালান যেগুলোতে রেয়াত নেবেন — সরবরাহকারীর বিআইএনসহ বৈধ মূসক-৬.৩ এবং আমদানির পণ্য ঘোষণা (বিল অব এন্ট্রি)
- ক্রেডিট নোট / ডেবিট নোট (মূসক-৬.৭ / ৬.৮) — বাড়তি বা কমতি সমন্বয়
- উৎসে কর্তনের সনদ (মূসক-৬.৬) — ক্রেতা আপনার মূসক কেটে রাখলে
- ট্রেজারি চালান — এই সময়ে যা জমা দিয়েছেন
- আগের রিটার্নের জের টানা (closing balance) অঙ্ক
ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টার (মূসক-৬.১ / ৬.২) ঠিক থাকলে ওপরের সবই সেখান থেকে আসে।
রিটার্নের অংশগুলো
মূসক-৯.১-এ অনেকগুলো ঘর, কিন্তু সাজানো আছে কয়েকটি অংশে:
| অংশ | কী থাকে |
|---|---|
| অংশ ১–২ | প্রতিষ্ঠানের পরিচয় (বিআইএন, নাম, কর মেয়াদ) |
| অংশ ৩ — সরবরাহ / আউটপুট ট্যাক্স | বিক্রয় হার অনুযায়ী: শূন্যহার, অব্যাহতিপ্রাপ্ত, স্ট্যান্ডার্ড হার (১৫%), হ্রাসকৃত হার, নির্দিষ্ট মূসক — মূল্য ও মূসক |
| অংশ ৪ — ক্রয় / ইনপুট ট্যাক্স | ক্রয়: স্থানীয় ও আমদানি, হার অনুযায়ী — মূল্য ও রেয়াতযোগ্য মূসক |
| অংশ ৫ — বৃদ্ধিকারী সমন্বয় | যে কারণে দেয় মূসক বাড়ে: ডেবিট নোট, উৎসে কর্তিত মূসক (ক্রেতা হিসেবে), আগের ভুল সংশোধন ইত্যাদি |
| অংশ ৬ — হ্রাসকারী সমন্বয় | যে কারণে কমে: ক্রেডিট নোট, মূসক-৬.৬ অনুযায়ী উৎসে কর্তিত মূসক (সরবরাহকারী হিসেবে), আগাম কর |
| অংশ ৭ — নিট হিসাব | আউটপুট − ইনপুট + বৃদ্ধি − হ্রাস, আগের রিটার্নের জের, এবার দেয়/ফেরতযোগ্য |
| অংশ ৮ — পরিশোধ | ট্রেজারি চালানের বিবরণ (চালান নম্বর, তারিখ, ব্যাংক, পরিমাণ) |
| অংশ ৯ | জের টানা — পরের রিটার্নে যে অঙ্ক যাবে |
| অংশ ১০–১১ | তফসিলভুক্ত তথ্য ও ঘোষণা |
ফরমটি কয়েকবার সংশোধিত হয়েছে, তাই অংশের নম্বর বা শিরোনাম পোর্টালের বর্তমান ফরমে সামান্য আলাদা হতে পারে — হিসাবের ধারা একই।
কয়েকটি নিয়ম যা ভুল হয় বেশি
- রেয়াত নিতে বৈধ চালান লাগবেই — সরবরাহকারীর বিআইএন, আপনার নাম-বিআইএন, হার ও মূসক পরিষ্কার লেখা মূসক-৬.৩। হাতে লেখা ক্যাশমেমোতে রেয়াত নেই।
- সময়সীমা — কোনো ক্রয়ের রেয়াত যে কর মেয়াদে চালান পেয়েছেন সেই মেয়াদে বা পরের ছয় কর মেয়াদের মধ্যে নিতে হয়; এর পরে আর নয়।
- ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ — এক লাখ টাকার বেশি মূল্যের সরবরাহের দাম ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধ না হলে রেয়াত মেলে না।
- জমা আগে, রিটার্ন পরে — দেয় মূসক ট্রেজারি চালানে জমা দিয়ে তারপর রিটার্নে চালানের তথ্য দিন; জমা ছাড়া রিটার্ন অসম্পূর্ণ।
দেরি হলে কী হয়
নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে জরিমানা আরোপ করা যায়, আর সময়মতো জমা না দেওয়া মূসকের ওপর মাসিক ১% সরল সুদ (সর্বোচ্চ ২৪ মাস) দিতে হয়। রিটার্নে ভুল সমন্বয় ধরা পড়লে বাড়তি অঙ্কের ৩০–৫০% পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
সাধারণ প্রশ্ন
তিন মাসে কোনো বিক্রি নেই — রিটার্ন দিতে হবে? হ্যাঁ, শূন্য রিটার্ন। না দিলে জরিমানা একই।
রিটার্ন দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়ল? আইনে নির্ধারিত সময় ও শর্তে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যায় — ভুল ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব ঠিক করুন।
ইনপুট ট্যাক্স আউটপুটের চেয়ে বেশি হলে? বাড়তি অঙ্ক জের হিসেবে পরের রিটার্নে যায়; শর্ত পূরণ হলে ফেরতও চাওয়া যায়।
ভ্যাটকোরে তিন মাস শেষে রিটার্ন খুললে মূসক-৯.১-এর প্রতিটি ঘর আপনার চালান, ক্রয়, নোট, ৬.৬ সনদ ও ট্রেজারি জমা থেকে পূরণ হয়ে থাকে; আগের রিটার্নের জের নিজে থেকে আসে। চূড়ান্ত করলে সময়টি লক হয়ে যায়, পিডিএফ ছাপিয়ে বা অঙ্ক দেখে অনলাইনে দাখিল করুন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬ (অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী)। আইন, হার ও সময়সীমা বাজেট বা এসআরও-তে বদলাতে পারে — বড় সিদ্ধান্তের আগে চলতি নিয়ম বা আপনার মূসক পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এটি আইনি পরামর্শ নয়।