কার মূসক নিবন্ধন (বিআইএন) লাগে — সীমা, নিবন্ধন বনাম তালিকাভুক্তি, কীভাবে করবেন
বাংলাদেশে ব্যবসা করতে গেলে একটা সময় প্রশ্ন আসে — “আমার কি ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন লাগবে?” উত্তরটা নির্ভর করে বছরে কত টাকার পণ্য বা সেবা বিক্রি করেন (টার্নওভার) আর কী ধরনের ব্যবসা করেন তার ওপর। নিবন্ধন করলে আপনি পান বিআইএন (Business Identification Number) — যা চালান, রিটার্ন, আমদানি-রপ্তানি, টেন্ডার, ব্যাংক — সব জায়গায় লাগে।
তিনটি স্তর
| বার্ষিক টার্নওভার | কী করতে হবে | কী দিতে হবে |
|---|---|---|
| ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত | কিছু বাধ্যতামূলক নয় (নির্দিষ্ট ব্যবসা ছাড়া) | মূসক নেই |
| ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা | টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি | বিক্রয়ের ওপর ৪% টার্নওভার কর, রেয়াত নেই |
| ৫০ লাখ টাকার বেশি | মূসক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক | বিক্রয়ে ১৫% (বা প্রযোজ্য হার) মূসক, ক্রয়ের মূসক রেয়াত |
জানুয়ারি ২০২৫-এর সংশোধনে সীমা দুটি কমানো হয়েছে (আগে ছিল ৫০ লাখ ও ৩ কোটি)। যেকোনো ১২ মাসে টার্নওভার সীমা ছাড়ালে ৩০ দিনের মধ্যে ই-ভ্যাট সিস্টেমে আবেদন করতে হয়। সীমা বাজেটে আবার বদলাতে পারে — চলতি অর্থবছরের নিয়ম দেখে নিন।
টার্নওভারের নিচে থাকলেও স্বেচ্ছায় নিবন্ধন নেওয়া যায় — অনেকে নেন, কারণ বড় ক্রেতা, করপোরেট ক্লায়েন্ট বা সরকারি টেন্ডার বিআইএন ছাড়া কাজ দেয় না, আর নিবন্ধিত হলে ক্রয়ের মূসক রেয়াত পাওয়া যায়।
টার্নওভার যা-ই হোক, নিবন্ধন লাগবে
কিছু ব্যবসায় টার্নওভার দেখা হয় না — শুরুতেই নিবন্ধন লাগে। যেমন: আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক, সম্পূরক শুল্কযুক্ত পণ্যের উৎপাদক বা সরবরাহকারী, এবং এনবিআরের তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট সেবা ও ব্যবসা। দরপত্রে অংশ নেওয়া সরবরাহকারীর ক্ষেত্রেও নিবন্ধন লাগে।
নিবন্ধন করতে কী লাগে
অনলাইনে, এনবিআরের ভ্যাট অনলাইন সিস্টেমে (মূসক-২.১ ফরম)। সাধারণত যা লাগে:
- ট্রেড লাইসেন্স
- ই-টিআইএন (মালিক / কোম্পানির)
- মালিক বা পরিচালকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি
- ব্যাংক হিসাবের তথ্য / সলভেন্সি সার্টিফিকেট
- ব্যবসার ঠিকানার প্রমাণ (চুক্তিপত্র বা দলিল)
- কোম্পানি হলে নিবন্ধন সনদ, মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস
- আমদানি-রপ্তানি হলে আইআরসি/ইআরসি
আবেদন মঞ্জুর হলে মূসক-২.৩ নিবন্ধন সনদ আসে, তাতে আপনার বিআইএন। সনদটি ব্যবসার স্থানে দৃশ্যমান জায়গায় রাখতে হয়।
একাধিক শাখা বা একাধিক ব্যবসা
একই মালিকের একাধিক শাখা সাধারণত একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের অধীনে থাকতে পারে, শর্তসাপেক্ষে; আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান (আলাদা ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএন) হলে প্রতিটির আলাদা বিআইএন।
নিবন্ধনের পর যা বদলে যায়
- প্রতিটি বিক্রয়ে মূসক-৬.৩ চালান
- ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টার (মূসক-৬.১ / ৬.২) প্রতিদিন
- প্রতি তিন মাসে মূসক-৯.১ রিটার্ন, মেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে — বিক্রি না হলেও
- ব্যবসার তথ্য বদলালে (ঠিকানা, মালিকানা, ব্যাংক) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানানো
সাধারণ প্রশ্ন
ফ্রিল্যান্সার বা ছোট অনলাইন দোকান — লাগবে? টার্নওভার সীমার নিচে এবং নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে হলে বাধ্যতামূলক নয়। তবে করপোরেট ক্লায়েন্ট বা প্ল্যাটফর্ম বিআইএন চাইলে স্বেচ্ছায় নিতে হয়।
টার্নওভার কর তালিকাভুক্ত থেকে নিবন্ধনে যাব কীভাবে? টার্নওভার ৫০ লাখ ছাড়ালে বা স্বেচ্ছায় — আবেদন করে নিবন্ধনে রূপান্তর; তার পর থেকে ১৫% হার ও রেয়াত ব্যবস্থা।
বিআইএন ছাড়া মূসক আদায় করা যায়? না। নিবন্ধন ছাড়া চালানে মূসক লেখা বা আদায় করা দণ্ডনীয়।
ভ্যাটকোর মূসক-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের জন্য — বিআইএন থাকলেই সেট করা যায়, আর নিবন্ধনের পরের তিনটি কাজ (চালান, রেজিস্টার, রিটার্ন) নিজে থেকে হয়। এক মালিকের একাধিক বিআইএন থাকলে প্রো প্ল্যানে পাঁচটি পর্যন্ত ব্যবসা এক লগইনে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬ (অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী)। আইন, হার ও সময়সীমা বাজেট বা এসআরও-তে বদলাতে পারে — বড় সিদ্ধান্তের আগে চলতি নিয়ম বা আপনার মূসক পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এটি আইনি পরামর্শ নয়।